বাংলা রচনা
সমগ্র
বাংলাদেশের সাহিত্য
(সংকেত: ভূমিকা; বাংলাদেশের সাহিত্যের স্বরূপ; বাংলাদেশের সাহিত্যে নজরুল; বাংলাদেশের সাহিত্যে ইসলামী রেনেঁসা; বাংলাদেশের সাহিত্যে নারী জাগরণ; বাংলাদেশের সাহিত্যে লোকজ প্রসংঙ্গ; বাংলাদেশের সাহিত্যে আধুনিক কাল; উপসংহার।)ভূমিকা: যুগ যুগ ধরে মানুষের হৃদয়কে সৃষ্টিশীল কর্ম দিয়ে আন্দোলিত করে চলেছেন কবি সাহিত্যিকরা। জন্ম হওয়া মাত্রই ভাষা পূর্ণতা পায়নি। ভাষার পূর্ণতা এসেছে সাহিত্যিকদের ছোঁয়ায়। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাসের মতো অনন্য সব সৃষ্টি ভাষাকে যেন নতুন জীবন দান করেছে। স্বতন্ত্র এবং পরিপূর্ণ ভাষা হিসেবে বাংলা সাহিত্যের যেমন রয়েছে সমৃদ্ধ ভান্ডার তেমনি বাংলাদেশের সাহিত্যের রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সব কর্ম। সাহিত্যের দিক বিবেচনা করলে বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গন রচিত হয়েছে এক অনিন্দ্যসুন্দর প্রেক্ষাপটে। এত বৈচিত্রপূর্ণ সাহিত্যাঙ্গন দুনিয়ার আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
বাংলাদেশের সাহিত্যের স্বরূপ: এদেশের সাহিত্যের সবুজ অঙ্গন সুশোভিত হয়েছে নানাভাবে। কখনো সাহিত্যের মাঠে মরু বেদুঈনের মতো বিষের বাঁশি হাতে অগ্নিবীনার আগুন ঝরা সুর ছড়িয়েছেন বিদ্রোহের মহাপুরুষ। কখনো বা ঘুমন্ত জাতিকে জেগে উঠার স্বপ্ন দেখিয়েছেন সাত সাগরের মাঝি। মেঠো পথের রাখাল বালক বুনে গেছেন নকশী কাঁথার মাঠে কবরের হৃদয়গ্রাহী বেদনা। কখনো বা কালের কলস হাতে বাংলার সারা মাঠ-ঘাট মায়ের হারিয়ে যাওয়া নোলক খুঁজেছেন বাংলা মায়ের ছেলে। সংসার এবং স্বামী সেবার বাইরেও যে একটা পৃথিবী রয়েছে তা নারীদের জানাতে এগিয়ে এসেছেন বাংলা সাহিত্যের অগ্নিকন্যারা। নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজীবন লড়াই করে গেছেন রক্ষণশীল সমাজ, গোঁড়ামি আর কুসংস্কারের বিরুদ্ধে। ঋতু বৈচিত্রের মতোই বিচিত্র সুন্দর এই বাংলাদেশের সাহিত্য। এই সৌন্দর্যের মায়াজালে আবদ্ধ বাংলার গ্রামীন জনপদ, শহরের ব্যস্ত জীবন।
বাংলাদেশের সাহিত্যে নজরুল:
বাংলাদেশের সাহিত্যে লোকজ প্রসঙ্গ: বাংলা সাহিত্যে জসীম উদদীন সুপরিচিত পল্লীকবি হিসেবে আর আল মাহমুদ পরিচিত আধুনিক লোকজ কবি। আবহমান বাংলার প্রকৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস তার কবিতায় যেন প্রাণের স্পর্শ পেয়েছে। নদীমাতা বাংলার পরিচিত অথচ চির নতুন কুয়াশার মতো আল মাহমুদের কবিতা। তার লেখা “কালের কলস, সোনালি কাবিন” তাকে বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে এক জীবন্ত কিংবদন্তী আখ্যা দেয়। জসীম উদদীনের পরে বাংলাদেশের সাহিত্যকে মাটির কাছে, নদীর কাছে এতটা আর কেউ নিয়ে যেতে পারেনি। তার কবিতার সহজাত ভাব, লোকজ শব্দ পাঠককে যেন গ্রামীণ আবহের মাঝে নিয়ে যায়। জীবন্ত এ কিংবদন্তী লেখক বাংলাদেশের মাটি, মানুষ আর নদীর মতোই সহজ, সুন্দর। তার লেখা সাহিত্য আমাদের বহুকাল ধরে সোঁদা মাটির গন্ধ শুনাবে। পানকৌড়ি বা ডাহুকের মতো তিনি আমাদের প্রকৃতি আর সাহিত্যের অনবদ্য অংশ।
বাংলাদেশের সাহিত্যে আধুনিক কাল: বাংলাদেশের সাহিত্যের আধুনিক কাল মুখরিত হয়েছে বহু শক্তিমান লেখকের পদচারনায়। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের দাঁড় টেনে নিয়ে গেছেন শামসুর রাহমান, হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ুন আহমেদের মতো বহুমাত্রিক লেখকেরা। শামসুর রাহমান তার লেখনীতে তুলে এনেছেন আধুনিকতার ছন্দ। হুমায়ুন আজাদের শব্দ চয়ন, উপমার ঢঙ বাংলা ভাষাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আর সহজ-সাবলীল শব্দ, অসাধারণ গল্প, বর্ণনার জাদুকরী শক্তি হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে গেছে পাঠকের খুব কাছে। তার লেখা খুব সহজেই হৃদয়ের অলিগলিতে প্রবেশ করে। “নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার” কিংবা হিমু’র মতো রহস্যময় চরিত্র বাংলা সাহিত্যে আর কেউ সৃষ্টি করে যেতে পারেনি। বাংলাদেশের সাহিত্যের আধুনিক কালকে তাই এককথায় সমৃদ্ধ, বৈচিত্রময় আর পাঠকনন্দিত বলা যায়। এই দুই দশকে সাহিত্য পাঠকের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ হারে। যা এদেশের সাহিত্যে উজ্জ্বল দিগন্ত সূচনা করেছে।
উপসংহার: বাঙালি জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্যের মতোই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের সাহিত্য। অসংখ্য প্রতিভাবান সাহিত্যিক অবলীলায় খেলা করেছেন বাংলা সাহিত্যের উন্মুক্ত প্রান্তরে। তাদের সৃষ্টিশীল সাহিত্য কর্মে বাংলাদেশের সাহিত্য পেয়েছে এক অনন্য মর্যাদা। প্রাগৌতিহাসিক কাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত অজস্র নক্ষত্রের আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছে বাংলার সাহিত্যাঙ্গন।
No comments:
Post a Comment