দুঃখী বলে, ‘বিধি নাই, নাহিক বিধাতা;

দুঃখী বলে, ‘বিধি নাই, নাহিক বিধাতা; 
চক্রসম অন্ধ ধরা চলে।’ 
সুখী বলে,‘কোথা দুঃখ, অদৃষ্ট কোথায়? 
ধরণী নরের পদতলে।’ 
জ্ঞানী বলে,-‘কার্য আছে, কারণ দুর্জ্ঞেয়; 
এ জীবন প্রতীক্ষা কাতর।’ 
ভক্ত বলে,-‘ধরণীর মহারসে সদা 
ক্রীড়ামত্ত রসিক শেখর।’ 
ঋষিবলে,-‘ধ্রুব তুমি, বরেণ্য ভূমান।’ 
কবি বলে,-‘তুমি শোভাময়।’ 
গৃহী আছি,-‘জীবনযুদ্ধে ডাকি হে কাতরে, 
দয়াময় হও হে সদয়।’ 
সারমর্ম: বিচার বুদ্ধি, চিন্তা-চেতনা, মন মানসিকতায় পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ একে অপরের থেকে পৃথক। দুঃখী ব্যক্তির কাছে জীবন চির দুঃখময় আর সুখীর কাছে জীবন হলো চির সুখের। তেমনিভাবে জ্ঞানী তার কাজের দ্বারা, ভক্ত তার ভক্তি দ্বারা, ঋষি তার দর্শন দ্বারা জীবন ও জগৎকে বিচার বিশ্লেষণ করে থাকে। গৃহী মানুষ প্রতিনিয়ত জীবনযুুদ্ধে বিপর্যস্ত তাই সে স্রষ্টার কাছে করুণা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে জীবনের অর্থ খুঁজে পায়।